Home

Friday, May 3, 2024

আন্দুল রাজবাড়ির ইতিহাস | History of Andul Rajbari

 

আন্দুল রাজবাড়ি ও সামনে বিস্তৃর্ণ মাঠ
আন্দুল রাজবাড়ি ও সামনে বিস্তৃর্ণ মাঠ

অফিসের এক কলিগ এর কাছ থেকেই প্রথম আন্দুল রাজ বাড়ির কথা জানতে পারি, তারপর ইন্টারনেটে একটু খুঁজাখুঁজি করতেই সব শেষ, রাতে ঘুমই প্রায় এলো না বললেই চলে তাই উত্তেজনাকে আর সামলাতে না পেরে বেরিয়ে পড়লাম অস্টাদশ শতাব্দীর ইতিহাস খুঁজতে, হাওড়া স্টেশন থেকে আন্দুল পর্যন্ত টিকিট কেটে নেমে পড়লাম আন্দুল স্টেশনে এরপর একটা টোটো ধরে সোজা আন্দুল রাজ বাড়ির সামনে, গিয়ে তো আমি একেবারেই স্তম্ভিত হয়ে গেছি এ যেন এক রূপ কথার প্রাসাদ ছাড়া আর কিছু নয়, প্রায় ৫০ ফুট উঁচু একটি রাজপ্রাসাদ যার কাছ দিয়ে বয়ে গেছে একসময়ের স্বরস্বতী নদী তবে এখন এটি একটি নালায় পরিনত হয়েছে | অনেক কষ্টের পর রাজ বাড়ির এক সদস্য এর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিলাম উনার কাছ থেকে এই রাজ বাড়ির কথা যা জানতে পারলাম তা কিছু টা এই রকম, 

আন্দুল রাজবাড়ির ফটক


ভারতে তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রয়েছে আর সেই সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হুগলি জেলায় উকীল পদে নিযুক্ত হয় আন্দুলের এক যুবক যার নাম ছিল রামচরন রায়, এর পর তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও ভক্তি দেখে ব্রিটিশ তৎকালীন প্রতিনিধি লর্ড ক্লাইভ তাকে দেওয়ান পদে নিয়োগ করেন, ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে জুন ব্রিটিশদের সাথে সিরাজের পলাশি যুদ্ধের শুরু ও কিছুক্ষণের মধ্যেই সিরাজের পতন আর এর সাথেই শুরু হল মুর্শিদাবাদে অরাজকতা। ক্রমে ইংরেজ সৈন্যরা একে একে সিরাজের প্রাসাদ, অস্ত্রাগার, কোষাগার অধিগ্রহণ করল। সেসময়েও মুর্শিদাবাদের দেওয়ান পদে রয়েছে আমাদের রামচরণ রায়। প্রবাদ আছে ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বস্ত কর্মী হওয়ায় সেই রাতেই বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজদৌল্লার কোষাগারের অগাধ সম্পত্তি নিয়ে সরস্বতী নদী মারফৎ এসে পৌঁছালেন আন্দুলে।

আন্দুল রাজবাড়ির দালান


এরপর ব্রিটিশদের হাতে বাংলা দেওয়ানী লাভ করলে কোম্পানির কর্মচারীদের অবস্থার ও উন্নতি ঘটে,এবং সেই সময় এই পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে ও পরে তা বৃদ্ধি পায়,দিল্লি সম্রাট দ্বিতীয় আলম সাহের কাজ থেকে পরে রামচরনের ছেলে রামলোচন " রাজা " উপাধি ও একটি কামান (যা এখনও রয়েছে) ও কিছু সৈনিকের অধিনায়কত্ব করার অধিকার পান,পিতা রামচরণ রায় আন্দুল রাজবংশের সূচনা করলেও মূলত রামলোচন-ই এই রাজবংশের ভিত্তি স্থাপন করেন। 

আন্দুল রাজবাড়ির দালান


১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে রামলোচনের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তার জৈষ্ঠ্ পুত্র কাশীনাথ রায় এবং কাশীনাথ এর পর রাজনারায়ণ সিংহাসনে বসেন , ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার গভর্নর লর্ড অকল্যান্ড রাজা রাজনারায়ণকে “রাজ বাহাদুর” উপাধিতে ভূষিত করেন এবং সেই উপলক্ষে সম্মানসূচক হিসাবে রত্নখচিত একটি তরবারি ও একটি ছুরি প্রদান করেন। রাজা রাজনারায়ণ রায় আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে এই বাড়ির নির্মাণ করেন। যা আজও এক ঐতিহাসিক নিদর্শন এর সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে তবে বর্তমানে এর বেশীরভাগই ধ্বংশ প্রায় । শোনা যায় এই রাজবাড়ীতে এসেছিলেন স্বয়ং রবার্ট ক্লাইভ,আন্দুল রাজ পরিবারের সঙ্গে পাশাপাশি উচ্চারিত হয় শোভাবাজার রাজপরিবারের নাম। দু’টি পরিবারের সৃষ্টির ইতিহাস সমসায়য়িক বলেই জানা যায়, রাজা রাজনারায়ণ বাহাদুর ১৮৩০ সালে প্রাসাদটি তৈরির কাজ শুরু করেন এবং ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত এটির নির্মাণ কাজ চলমান ছিলো,পাশেই রয়েছে রাজবাড়ির অন্নপূর্ণা মন্দির

ভারত থেকে জমিদারি প্রথা বন্ধ হওয়ায় আন্দুল রাজ পরিবার ও তাদের জমিদারি হারান | বর্তমানে রাজ পরিবারের কিছু সদস্যরা এখানে এখনো বাস করলেও রাজবাড়ীর রাজপাট গেছে অনেক আগেই,রাজবাড়ীর অধিকাংশ প্রায় ধ্বংসস্তুপ এ পরিনত হয়েছে এবং এখন এটি পশ্চিম বঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের অধীনে রয়েছে।  

Posted By Pradip Jana ( Article Writer )

No comments:

Post a Comment